Untitled

mail@pastecode.io avatar
unknown
plain_text
2 months ago
16 kB
2
Indexable
Never
1) মাতৃবৎ পরদারেষু পরদ্রব্যেষু লোষ্ট্রবৎ।
আত্মবৎ সর্ব্বভূতেষু যঃ পশ্যতি স পণ্ডিতঃ।।

অর্থ : যে ব্যক্তি পরের স্ত্রীকে মাতৃজ্ঞানে দেখেন, পরের দ্রব্যকে মাটির ঢেলার মতো জ্ঞান করেন (অর্থ নির্লোভ থাকেন) এবং সকল জীবে আত্মজ্ঞান পোষণ করেন- তিনিই যথার্থ জ্ঞানী।

2) ন কশ্চিৎ কস্যচিন মিত্রম ন কশ্চিৎ কস্যচিদ্ রিপু
কর্ণেন হি জানাতি মিত্রানি চ রিপুম তথাঃ।। 

স্বভাবত কেউই আমাদের বন্ধু বা শত্রু নয়।  একমাত্র কাজের দ্বারাই মানুষ আমাদের বন্ধু বা শত্রু বলে পরিগণিত হয় ৷ 

কিং কুলেন বিশালেন গুণহীনস্তু যো নরঃ।
অকুলীনোহপি শাস্ত্রজ্ঞো দৈবতৈরপি পূজ্যতে।।

বিদ্বত্ত্বঞ্চ নৃপত্বঞ্চ নৈব তুল্যং কদাচন।
স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান্ সর্বত্র পূজ্যতে।।

অর্থ : বিদ্যাবত্তা এবং রাজপদ কখনোই সমান হয় না। রাজা কেবলমাত্র নিজ রাজ্যেই সম্মান পান, বিদ্বান (স্বদেশ-বিদেশ) সর্বত্র সম্মান পান।

পণ্ডিতে চ গুণাঃ সর্বে মূর্খে দোষা হি কেবলম্ ।
তস্মান্মূর্খসহস্রেভ্যঃ প্রাজ্ঞ একো বিশিষ্যতে।।

অর্থ : পণ্ডিত ব্যক্তি সকল গুণের আর মূর্খ ব্যক্তি সকল দোষের আধার- এ ব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। তাই সহস্র মূর্খ অপেক্ষা একজন পণ্ডিত বিশিষ্ট বা অধিকতর গ্রাহ্য রূপে পরিগণিত হন।



অর্থ : যে ব্যক্তি গুণহীন, তার উচ্চবংশে জন্মগ্রহণেও সার্থকতা কোথায় ? বিপরীতপক্ষে, যিনি শাস্ত্রজ্ঞ, তিনি উচ্চবংশে জন্মগ্রহণ না করলেও দেবতাদের দ্বারা পূজিত (সমাদৃত) হন

রূপযৌবনসম্পন্না বিশালকুলসম্ভবাঃ।
বিদ্যাহীনা ন শোভন্তে নির্গন্ধা ইব কিংশুকাঃ।।

অর্থ : বিদ্যাহীন পুরুষ রূপযৌবনযুক্ত অথবা উচ্চবংশজাত হলেও গন্ধহীন পলাশ ফুলের মতো সমাদর লাভে সক্ষম হন না

নক্ষত্রভূষণং চন্দ্রো নারীণাং ভূষণং পতিঃ।
পৃথিবীভূষণং রাজা বিদ্যা সর্বস্য ভূষণম্ ।।

অর্থ : চাঁদ তারকাদের অলঙ্কার, স্বামী নারীর অলঙ্কার, রাজা পৃথিবীর অলঙ্কার আর বিদ্যা সকলজনের অলঙ্কার।

মাতা শত্রুঃ পিতা বৈরী যেন বালো ন পাঠিতঃ।
ন শোভন্তে সভামধ্যে হংসমধ্যে বকো যথা।।

অর্থ : যে পিতামাতা তাঁদের পুত্রকে যথাযোগ্য শিক্ষা প্রদান করেননি, সেই পুত্রের কাছে মাতা এবং পিতা শত্র“রূপে পরিগণিত হন। কেননা হাঁসের মধ্যে বক যেমন শোভা পায় না, তেমনি সেই পুত্রও বিদ্বৎসমাজে স্থান পায় না।

বরমেকো গুণী পুত্রো ন চ মূর্খশতৈরপি।
একশ্চন্দ্রস্তমো হন্তি নচ তারাগণৈরপি॥

অর্থ : (বহু মূর্খ পুত্রের তুলনায়) একটিমাত্র গুণবান পুত্র তুলনামূলকভাবে ভালো, কেননা শত মূর্খ পুত্রেও কোন কাজ হয় না। একটিমাত্র চন্দ্রই (রাতের) অন্ধকার দূর করে, অসংখ্য তারা তা পারে না।

লালয়েৎ পঞ্চবর্ষাণি দশবর্ষাণি তাড়য়েৎ।
প্রাপ্তেতু যোড়শে বর্ষে পুত্রং মিত্রবদাচরেৎ॥

অর্থ : সন্তানের পাঁচ বৎসর বয়স পর্যন্ত তাকে (পিতামাতা) স্নেহে প্রতিপালন করবেন, তারপরের দশ বৎসর তাকে যথাযোগ্য শাস্তি প্রদান করে (শিক্ষা দেবেন) এবং পুত্রের ষোল বৎসর বয়স হলে তার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করবেন।

লালনে বহবো দোষাস্তাড়নে বহবো গুণাঃ।
তস্মাৎ পুত্রঞ্চ শিষ্যঞ্চ তাড়য়েন্ন তু লালয়েৎ।।

অর্থ : (শৈশব অর্থ জন্মাবধি পাঁচ বৎসর অতিক্রান্ত হওয়ার পরে) অকারণে স্নেহ প্রদর্শন করলে অনেক দোষের সৃষ্টি হয়, উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করলে কিন্তু বহু গুণের জন্ম হয়। সুতরাং পুত্র এবং শিষ্যকে যেন যথাযোগ্য শাসন করা হয়, অতিরিক্ত স্নেহ দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।

একেনাপি সুবৃক্ষেণ পুষ্পিতেন সুগন্ধিনা।
বাসিতং তদ্বনং সর্বং সুপুত্রেণ কুলং যথা।।

অর্থ : যেমন সুগন্ধ ফুলে ভরা একটিমাত্র গাছের দ্বারাই সমগ্র বনভূমি (সুগন্ধে) আমোদিত হয়, তেমনি একটিমাত্র সুপুত্রের দ্বারা সমগ্র বংশ গৌরবান্বিত হয়।

একেনাপি কুবৃক্ষেণ কোটরস্থেন বহ্নিনা।
দহ্যতে তদ্বনং সর্বং কুপুত্রেণ কুলং যথা।।

অর্থ : যেমন একটিমাত্র কুবৃক্ষের কোটরের আগুনের দ্বারা সেই সমগ্র বন দগ্ধ হয়, তেমনি একটিমাত্র কুপুত্রের দ্বারা সমগ্র কুল কলঙ্কিত হয়।

দূরতঃ শোভতে মূর্খো লম্বশাটপটাবৃতঃ।
তাবচ্চ শোভতে মূর্খো যাবৎ কিঞ্চিন্ন ভাষতে।।

অর্থ : মূর্খ ব্যক্তি দীর্ঘ পোশাক পরিচ্ছদে ভূষিত হয়ে দূর থেকেই শোভা পায়, যতক্ষণ পর্যন্ত মূর্খ কোন কথা না বলে ততক্ষণই শোভা পায়, (কথা বললেই তার প্রকৃত স্বরূপ প্রকাশিত হয়ে পড়ে)।

বিষাদপ্যমৃতং গ্রাহ্যমমেধ্যাদপি কাঞ্চনং।
নীচাদপ্যুত্তমাং বিদ্যাং স্ত্রীরত্নংদুষ্কুলাদপি।।

অর্থ : অমৃত বিষ থেকেও গ্রহণ করা চলে, সোনা অশুচি স্থল থেকেও গ্রহণ করা চলে, শ্রেষ্ঠ বিদ্যা নীচ ব্যক্তির কাছ থেকেও গ্রহণ করা চলে, রমণীশ্রেষ্ঠা নীচ কুল থেকেও গ্রহণ করা চলে।

উৎসবে ব্যসনে চৈব দুর্ভিক্ষে শত্রুবিগ্রহে।
রাজদ্বারে শ্মশানে চ যস্তিষ্ঠতি স বান্ধবঃ।।

অর্থ : যে ব্যক্তি আনন্দানুষ্ঠানে, বিপদকালে, আকালের সময়, শত্র“র সঙ্গে সংগ্রামকালে, বিচারালয়ে (অর্থ মামলা-মোকদ্দমা চলাকালীন সাক্ষ্যাদির প্রয়োজনে) এবং শবদাহকালে (পাশে) উপস্থিত থাকেন, তিনিই প্রকৃত বন্ধু।

পরোক্ষে কার্যহন্তারং প্রত্যক্ষে প্রিয়বাদিনম্ ।
বর্জয়েৎ তাদৃশং মিত্রং বিষকুম্ভং পয়োমুখম্ ।।

অর্থ : যে ব্যক্তি সাক্ষাতে মিষ্ট কথা বলে কিন্তু অসাক্ষাতে কাজের ক্ষতি করে, সেরকম মুখে মধু অন্তরে বিষ বন্ধুকে ত্যাগ করা উচিত।

সকৃদ্ দুষ্টঞ্চ মিত্রং যঃ পুনঃ সন্ধাতুমিচ্ছতি।
ম মৃত্যুমুপগৃহ্নাতি গর্ভমশ্বতরী যথা।।

অর্থ : যে ব্যক্তি একবার বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে এমন বন্ধুর সঙ্গে পুনরায় বন্ধুত্ব কামনা করে সে প্রকৃতপক্ষে কাঁকুড়লতার গর্ভধারণের মতো নিজের মৃত্যু ডেকে আনে।

ন বিশ্বসেদবিশ্বস্তং মিত্রঞ্চাপি ন বিশ্বসেৎ।
কদাচিৎকুপিতংমিত্রংসর্ব্বদোষং প্রকাশয়েৎ

অর্থ : অবিশ্বাসীকে কখনো বিশ্বাস করবে না এবং বন্ধুকেও (অতিরিক্ত) বিশ্বাস করবে না। কেননা, বন্ধু কখনো (কোনো কারণে) ক্ষুব্ধ হলে সে (তোমার) সকল দোষ অন্যের কাছে প্রকাশ করে দিতে পারে।

জানীয়াৎ প্রেষণে ভৃত্যান্ বান্ধবান্ ব্যসনাগমে।
মিত্রঞ্চাপদি কালে চ ভার্যাঞ্চ বিভবক্ষয়ে।।

অর্থ : ভৃত্যের যথার্থ স্বরূপ তাঁর কাজের মাধ্যমে জানবে, বন্ধুর যথার্থ স্বরূপ রোগাদি বিপদের সময়ে জানবে। মিত্রের যথার্থ স্বরূপ উপদ্রব উপস্থিত হলে জানবে এবং ধনসম্পত্তি নাশের কালে স্ত্রীর যথার্থ স্বরূপ জানবে।

উপকারগৃহীতেন শত্রুণা শত্রুমুদ্ধরেৎ।
পাদলগ্নং করস্থেন কণ্টকেনৈব কন্টকং।

অর্থ : হাতের কাঁটা দিয়ে যেমন পায়ে বেঁধা কাঁটা তোলা হয় তেমনি তোমার উপকার গ্রহণ করেছে এমন শত্রু দিয়ে অন্য শত্রুকে উচ্ছেদ করবে।


দুর্জ্জনঃ প্রিয়বাদী চ নৈব বিশ্বাসকারণং।
মধু তিষ্ঠতি জিহ্বাগ্রে হৃদয়ে তু হলাহলং।।

অর্থ : দুর্জন ব্যক্তি মিষ্টভাষী হলেও তা বিশ্বাসের ব্যাপার নয়। কেননা, তার জিভের ডগায় থাকে মধু- আর অন্তরে থাকে তীব্র বিষ।

দুর্জনঃ পরিহর্তব্যো বিদ্যয়ালংকৃতোহপি সন্ ।
মণিনা ভূষিতঃ সর্পঃ কিমসৌ ন ভয়ঙ্করঃ।।

অর্থ : দুর্জন ব্যক্তি বিদ্যায় বিভূষিত হলেও তাকে ত্যাগ করা উচিত। কোনো সাপ মণিতে ভূষিত হলেও তা ভয়ঙ্করই থাকে।

সর্পঃ ক্রূরঃ খলঃ ক্রূরঃ সর্পাৎ ক্রূরতরঃ খলঃ।
মন্ত্রৌষধিবশঃ সর্পঃ খলঃ কেন নিবার্যতে।।

অর্থ : সাপের স্বভাব ক্রূর (নৃশংস)- দুর্জনেরও তাই। তবে দুর্জন সাপের চাইতেও বেশি ক্রূর। কেননা, সাপকে মন্ত্র কিংবা ওষধি দ্বারা বশে আনা যায়- কিন্তু দুর্জনকে কে নিবৃত্ত করবে ?

নখিনাঞ্চ নদীনাঞ্চ শৃঙ্গিণাং শস্ত্রপাণিনাম্ ।
বিশ্বাসো নৈব কর্ত্তব্যঃ স্ত্রীষু রাজকুলেষু চ।।

অর্থ : নখযুক্ত প্রাণী, নদী, শিং আছে এমন প্রাণী, শস্ত্রধারী পুরুষ, নারী এবং রাজপুরুষকে কখনও বিশ্বাস করা উচিত নয়।
Leave a Comment